কিমচি কোথা থেকে এসেছে?
কিমচি এসেছে কোরীয় উপদ্বীপ থেকে। কোরীয়রা হাজার বছরেরও অনেক বেশি সময় ধরে সবজি লবণে জারিয়ে গাঁজিয়ে আসছে, আর কিমচি আজও প্রায় প্রতিটি কোরীয় খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়, যদিও ইতিহাসের বেশির ভাগ সময় এটি মোটেই লাল ছিল না।
মাটির জালায় আচার
কোরিয়ার তিন রাজ্যের ইতিহাস ‘সামগুক সাগি’ সবজি গাঁজানোর জালার কথা বলে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তখনই আচার বেশ প্রচলিত ছিল। 13 শতকে পণ্ডিত ই গিউবো একটি কবিতা লেখেন, যা দেখায় যে গোরিও রাজবংশের আমলে মুলার কিমচি ছিল চেনা পদ: ‘নুনে জারানো মুলা শীতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশের পদ।’ ফ্রিজের আগের যুগে শীতের কিমচি রাখা হতো অঙ্গি নামের মাটির জালায়, যা মাটিতে পুঁতে রাখা হতো যাতে কিমচি জমে না যায়।
কিমচি যেভাবে লাল হলো
কিমচির প্রথম দিকের বিবরণে রসুন বা মরিচ কোনোটিরই উল্লেখ নেই। আমেরিকা মহাদেশের মরিচ পূর্ব এশিয়ায় আনেন পর্তুগিজ বণিকেরা, আর কোরিয়ায় তা পৌঁছায় 1600 সালের আশপাশে; সেখানে এর প্রথম উল্লেখ 1614 সালে প্রকাশিত বিশ্বকোষ ‘জিবং ইউসল’-এ। কিমচিতে মরিচ সাধারণ হয় কেবল 19 শতকে। আজকের সবচেয়ে প্রচলিত কিমচির ভিত্তি নাপা বাঁধাকপি কোরিয়ায় পৌঁছায় সেই শতকের শেষে, আর সে সময়ের একটি রান্নার বইয়ে আজকের মতো আস্ত বাঁধাকপির কিমচির বর্ণনা আছে।
মানুষ কেন জাপান বা চীনের কথা ভাবে
আচারি সবজি খাওয়া হয় গোটা পূর্ব এশিয়ায়, আর কিমচির যোগ আছে দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই। এর প্রধান সবজিকে প্রায়ই বলা হয় চায়নিজ ক্যাবেজ, আর এর নামের একটি আদি রূপ, thimchoy, ছিল চীনা অক্ষরে লেখা একটি শব্দের প্রতিবর্ণীকরণ, যার মানে ‘ডুবিয়ে রাখা সবজি’। জাপান নিজের সংস্করণ বানায়, যা বিক্রি হয় kimuchi নামে। কিন্তু কিমচি কোরীয়, আর কিমজাংও তাই: প্রতি বছর হেমন্তের শেষে মানুষ দল বেঁধে জড়ো হয়ে গোটা শীতের মতো কিমচি বানায় আর ভাগ করে নেয়, যে প্রথাকে ইউনেস্কো 2013 সালে তালিকাভুক্ত করে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Kimchi ↗ · en.wikipedia.org › Kimjang ↗ · ich.unesco.org ↗ · en.wikipedia.org › Gochugaru ↗