খাবার কোথা থেকে আসে
যেসব খাবারকে স্থানীয় মনে হয়, তার অনেকগুলোর শুরু সম্পূর্ণ অন্য কোথাও। প্রতিটি গল্প দেখায় কোনো খাবার বা পদ প্রথম কোথায় দেখা দিয়েছিল আর কীভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
6টি মহাদেশের 13টি গল্প
- আফ্রিকা · 1
- এশিয়া · 5
- ইউরোপ · 1
- উত্তর আমেরিকা · 4
- দক্ষিণ আমেরিকা · 1
- ওশেনিয়া · 1
অ্যাকি
📍 পশ্চিম আফ্রিকা (সেনেগাল থেকে ক্যামেরুন)
অ্যাকি জ্যামাইকার জাতীয় ফল, কিন্তু গাছটির আদি নিবাস পশ্চিম আফ্রিকা, আর অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকেই একে ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Blighia sapida রাখা হয়েছে ক্যাপ্টেন উইলিয়াম ব্লাইয়ের সম্মানে।
আপেল
📍 তিয়েন শান, মধ্য এশিয়া
আপেলের বুনো পূর্বপুরুষ Malus sieversii আজও মধ্য এশিয়ার তিয়েন শান পর্বতে জন্মায়। সেখানেই প্রথম আপেলের চাষ শুরু হয়, তারপর রেশম পথ ধরে তা ইউরোপে পৌঁছায়।
আম
📍 উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার
আমের উৎপত্তি উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ ও উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের মাঝের অঞ্চলে। ইংরেজি শব্দ ‘mango’ পর্তুগিজের হাত ঘুরে এসেছে মালয়ালম “manga” থেকে।
চা
📍 ইউনান, দক্ষিণ-পশ্চিম চীন
চা পানের শুরু সম্ভবত চীনের ইউনান অঞ্চলে, যেখানে স্থানীয় চা গাছের পাতা প্রথমে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। চীনা কিংবদন্তি বলে, পৌরাণিক শাসক শেননং চা আবিষ্কার করেছিলেন।
টোফু
📍 চীন
টোফুর উৎপত্তি চীনে। কিংবদন্তি 2,000 বছরেরও আগে এটি উদ্ভাবনের কৃতিত্ব দেয় হান রাজবংশের রাজকুমার লিউ আনকে, তবে এর প্রথম স্পষ্ট লিখিত উল্লেখ মেলে 965 খ্রিস্টাব্দের দিকে। জাপানে এর প্রথম নথি 1183 সালের।
লবঙ্গ
📍 উত্তর মোলুকাস, ইন্দোনেশিয়া
ঔপনিবেশিক যুগের আগ পর্যন্ত লবঙ্গ জন্মাত কেবল ইন্দোনেশিয়ার মোলুকাসের কয়েকটি ছোট দ্বীপে, যেমন তেরনাতে ও তিদোরে; এগুলোই ছিল আদি “মসলা দ্বীপপুঞ্জ”। চীনা বণিকেরা লবঙ্গের কারবারে সেখানে পাড়ি দিতেন।
পিচ মেলবা
📍 লন্ডন (স্যাভয় হোটেল), ইংল্যান্ড
ফরাসি শেফ অগুস্ত এসকফিয়ে 1892 বা 1893 সালে লন্ডনের স্যাভয় হোটেলে অস্ট্রেলীয় সোপ্রানো নেলি মেলবার সম্মানে পিচ মেলবা তৈরি করেন; মেলবা তখন কভেন্ট গার্ডেনের মধ্যমণি।
জেরুজালেম আর্টিচোক
📍 মধ্য উত্তর আমেরিকা
এটি জেরুজালেমেরও নয়, আর্টিচোকও নয়: এটি মধ্য উত্তর আমেরিকার স্থানীয় এক সূর্যমুখী গাছের কন্দ। ‘Jerusalem’ সম্ভবত girasole শব্দের বিকৃত রূপ, ইতালীয় ভাষায় যার মানে সূর্যমুখী।
নাচোস
📍 পিয়েদ্রাস নেগ্রাস, মেক্সিকো
1943 সালে মেক্সিকোর পিয়েদ্রাস নেগ্রাসের ভিক্টরি ক্লাবে প্রধান পরিচারক ইগনাসিও “নাচো” আনায়া মার্কিন অতিথিদের জন্য চিজ আর হালাপেনিয়ো ছড়ানো টর্টিয়া চিপস বানান এবং নিজের নামেই এর নাম রাখেন।
বাফেলো উইংস
📍 বাফেলো, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
নাম এসেছে নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহর থেকে, প্রাণীটি থেকে নয়। অ্যাংকর বারের দাবি, এর সহ-মালিক টেরেসা বেলিসিমো 1964 সালে সেখানে প্রথম ভাজা উইংস ঝাল সসে মাখান, যদিও স্থানীয় শেফ জন ইয়াং বলেছিলেন, তিনি 1961 সাল থেকেই বাফেলোতে উইংস ভাজছিলেন।
ভুট্টা
📍 বালসাস নদী উপত্যকা, মেক্সিকো
প্রায় 9,000 বছর আগে মেক্সিকোর বালসাস নদী উপত্যকায় টিওসিন্টে নামের এক বুনো ঘাস থেকে ভুট্টা তৈরি করা হয়। এর চাষের সূচনা হয়েছিল কেবল একবারই, তারপর তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা আমেরিকা মহাদেশে।
চিনাবাদাম
📍 দক্ষিণ বলিভিয়া ও উত্তর-পশ্চিম আর্জেন্টিনা
চিনাবাদামের চাষ শুরু হয় দক্ষিণ আমেরিকায়, খুব সম্ভবত দক্ষিণ বলিভিয়া বা উত্তর-পশ্চিম আর্জেন্টিনায়, যেখানে আজও সবচেয়ে বুনো-ধাঁচের জাতগুলো জন্মায়। প্রায় 7,600 বছরের পুরোনো, জানা প্রাচীনতম অবশেষ পাওয়া গেছে পেরুতে।
ম্যাকাডামিয়া বাদাম
📍 দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ম্যাকাডামিয়ার আদি নিবাস পূর্ব অস্ট্রেলিয়া; ওই মহাদেশের স্থানীয় খাদ্য-উদ্ভিদের মধ্যে কেবল এটিরই ব্যাপক চাষ হয়। 1880-এর দশকে এর বীজ হাওয়াইয়ে পৌঁছায়, আর কয়েক দশক ধরে হাওয়াই ছিল বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক, যতদিন না 1997 সালে অস্ট্রেলিয়া তাকে ছাড়িয়ে যায়।